অর্থপাচারের প্রমাণ পাওয়া গেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে : বাণিজ্যমন্ত্রী

ছবি সংগৃহীত

 

অনলাইন ডেস্ক :  আমদানি-রপ্তানির আড়ালে বছরে প্রায় ৮ বিলিয়ন ডলার বিদেশে পাচার হচ্ছে বলে জাতীয় সংসদে অভিযোগ তুলেছেন স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা। তবে এ ধরনের অর্থপাচারের বিষয়টি প্রমাণ করা সহজ নয় বলে মন্তব্য করেছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির।

আজ সোমবার জাতীয় সংসদ অধিবেশনে সম্পূরক প্রশ্নে বিষয়টি উত্থাপন করেন রুমিন ফারহানা।

ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে অধিবেশনে তিনি বলেন, ‘দীর্ঘ এক ঘণ্টা হাত উঁচিয়ে ছিলাম, এরপর কথা বলার সুযোগ পেয়েছি। আমদানি-রপ্তানির আড়ালে প্রতিনিয়ত অর্থ পাচার হচ্ছে। আমার প্রশ্ন হলো, টাকা পাচারের বিরুদ্ধে বাণিজ্যমন্ত্রী কী পদক্ষেপ নেবেন?

জবাবে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, আমদানি-রপ্তানির আড়ালে অনেক কিছু ঘটে।

অর্থপাচারের বিষয়টি নিয়ে গবেষণার প্রয়োজন আছে। এটি শুনতে যত সহজ, প্রমাণ করা তত কঠিন। দেশে প্রায় ১৩০ বিলিয়ন ডলারের বাণিজ্য হচ্ছে। নির্দিষ্টভাবে বলা কঠিন কোন পণ্যের মাধ্যমে কত অর্থ পাচার হচ্ছে।

তবে আমরা বিষয়টি নিয়ে কাজ করছি। প্রমাণ পাওয়া গেলে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অন্য এক প্রশ্নের জবাবে বাণিজ্যমন্ত্রী জানান, স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে উত্তরণের পর বাংলাদেশের প্রায় ১৭ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলারের রপ্তানি ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে। কারণ উন্নত অর্থনীতির দেশগুলোতে বর্তমানে যে অগ্রাধিকারমূলক বাজারসুবিধা পাওয়া যাচ্ছে, উত্তরণের পর তার বড় অংশ হারাতে হবে।

তিনি বলেন, এই চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় সরকার বাণিজ্য ও বাজার বহুমুখীকরণের উদ্যোগ নিয়েছে।

ইতোমধ্যে জাপানের সঙ্গে ইকোনমিক পার্টনারশিপ এগ্রিমেন্ট (ইপিএ) সম্পন্ন হয়েছে। দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে কমপ্রিহেনসিভ ইকোনমিক পার্টনারশিপ অ্যাগ্রিমেন্ট (সিইপিএ) নিয়ে আলোচনা চলছে। পাশাপাশি ইউরোপীয় ইউনিয়ন, সংযুক্ত আরব আমিরাত, সিঙ্গাপুর, ইন্দোনেশিয়া, চীনসহ বিভিন্ন দেশের সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি বা অর্থনৈতিক অংশীদারি চুক্তির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
মন্ত্রী জানান, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে দেশের বাণিজ্য ঘাটতি বেড়ে ২৪ দশমিক ১৬ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে, যা আগের অর্থবছরে ছিল ২১ দশমিক ৫০ বিলিয়ন ডলার। ওই সময়ে রফতানি আয় ছিল ৫৫ দশমিক ১৯ বিলিয়ন ডলার, বিপরীতে আমদানি হয়েছে ৭৯ দশমিক ৩৫ বিলিয়ন ডলারের পণ্য।

তিনি বলেন, দেশের মোট রপ্তানি আয়ের ৮৪ শতাংশই এখনও তৈরি পোশাক খাতনির্ভর। এ নির্ভরতা কমাতে চামড়া, পাট, কৃষিপণ্য, ওষুধ, আইসিটি, লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং, হিমায়িত খাদ্য ও প্লাস্টিক খাতকে বিশেষ সুবিধা দেওয়া হচ্ছে।

তিনি আরো জানান, নতুন বাজার অনুসন্ধান, অর্থনৈতিক কূটনীতি জোরদার, স্বল্পসুদে ঋণ সহায়তা এবং রফতানি বহুমুখীকরণের মাধ্যমে বৈশ্বিক বাণিজ্যে বাংলাদেশের অবস্থান আরও শক্তিশালী করার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



সর্বশেষ আপডেট



» গর্ভাবস্থায় মর্নিং সিকনেস সারানোর ঘরোয়া উপায়

» আলুর নাগেট তৈরির রেসিপি

» পশ্চিম তীরে সংঘর্ষে ১ ইসরায়েলি নিহত, আহত ৩

» বিভিন্ন অপরাধে জড়িত ২৬ জন গ্রেফতার

» বিশেষ অভিযান বিভিন্ন অপরাধে জড়িত ২০ জন গ্রেফতার

» ‎৮০ টাকার নিচে মিলছে না সবজি, পেঁয়াজ ও কাঁচা মরিচে বাড়বাড়ন্ত দাম

» শিখা অনির্বাণে শ্রদ্ধা নিবেদন করলেন নবনিযুক্ত নৌবাহিনী প্রধান

» শাহরুখ কি সত্যিই আন্দোলন সমর্থন করছেন?

» গভীর সমুদ্রে জেলের জালে ধরা পড়ল সোলজারফিশ

» গত ২৪ ঘণ্টায় বিভিন্ন অপরাধে জড়িত অভিযোগে ৪২৮ জন গ্রেপ্তার

 

সম্পাদক ও প্রকাশক :মো সেলিম আহম্মেদ,

ভারপ্রাপ্ত,সম্পাদক : মোঃ আতাহার হোসেন সুজন,

নির্বাহী সম্পাদকঃ আনিসুল হক বাবু

 

ইমেল: [email protected]

ফোন নাম্বার : ০১৫৩৫১৩০৩৫০,

Desing & Developed BY PopularITLtd.Com
পরীক্ষামূলক প্রচার...

অর্থপাচারের প্রমাণ পাওয়া গেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে : বাণিজ্যমন্ত্রী

ছবি সংগৃহীত

 

অনলাইন ডেস্ক :  আমদানি-রপ্তানির আড়ালে বছরে প্রায় ৮ বিলিয়ন ডলার বিদেশে পাচার হচ্ছে বলে জাতীয় সংসদে অভিযোগ তুলেছেন স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা। তবে এ ধরনের অর্থপাচারের বিষয়টি প্রমাণ করা সহজ নয় বলে মন্তব্য করেছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির।

আজ সোমবার জাতীয় সংসদ অধিবেশনে সম্পূরক প্রশ্নে বিষয়টি উত্থাপন করেন রুমিন ফারহানা।

ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে অধিবেশনে তিনি বলেন, ‘দীর্ঘ এক ঘণ্টা হাত উঁচিয়ে ছিলাম, এরপর কথা বলার সুযোগ পেয়েছি। আমদানি-রপ্তানির আড়ালে প্রতিনিয়ত অর্থ পাচার হচ্ছে। আমার প্রশ্ন হলো, টাকা পাচারের বিরুদ্ধে বাণিজ্যমন্ত্রী কী পদক্ষেপ নেবেন?

জবাবে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, আমদানি-রপ্তানির আড়ালে অনেক কিছু ঘটে।

অর্থপাচারের বিষয়টি নিয়ে গবেষণার প্রয়োজন আছে। এটি শুনতে যত সহজ, প্রমাণ করা তত কঠিন। দেশে প্রায় ১৩০ বিলিয়ন ডলারের বাণিজ্য হচ্ছে। নির্দিষ্টভাবে বলা কঠিন কোন পণ্যের মাধ্যমে কত অর্থ পাচার হচ্ছে।

তবে আমরা বিষয়টি নিয়ে কাজ করছি। প্রমাণ পাওয়া গেলে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অন্য এক প্রশ্নের জবাবে বাণিজ্যমন্ত্রী জানান, স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে উত্তরণের পর বাংলাদেশের প্রায় ১৭ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলারের রপ্তানি ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে। কারণ উন্নত অর্থনীতির দেশগুলোতে বর্তমানে যে অগ্রাধিকারমূলক বাজারসুবিধা পাওয়া যাচ্ছে, উত্তরণের পর তার বড় অংশ হারাতে হবে।

তিনি বলেন, এই চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় সরকার বাণিজ্য ও বাজার বহুমুখীকরণের উদ্যোগ নিয়েছে।

ইতোমধ্যে জাপানের সঙ্গে ইকোনমিক পার্টনারশিপ এগ্রিমেন্ট (ইপিএ) সম্পন্ন হয়েছে। দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে কমপ্রিহেনসিভ ইকোনমিক পার্টনারশিপ অ্যাগ্রিমেন্ট (সিইপিএ) নিয়ে আলোচনা চলছে। পাশাপাশি ইউরোপীয় ইউনিয়ন, সংযুক্ত আরব আমিরাত, সিঙ্গাপুর, ইন্দোনেশিয়া, চীনসহ বিভিন্ন দেশের সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি বা অর্থনৈতিক অংশীদারি চুক্তির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
মন্ত্রী জানান, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে দেশের বাণিজ্য ঘাটতি বেড়ে ২৪ দশমিক ১৬ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে, যা আগের অর্থবছরে ছিল ২১ দশমিক ৫০ বিলিয়ন ডলার। ওই সময়ে রফতানি আয় ছিল ৫৫ দশমিক ১৯ বিলিয়ন ডলার, বিপরীতে আমদানি হয়েছে ৭৯ দশমিক ৩৫ বিলিয়ন ডলারের পণ্য।

তিনি বলেন, দেশের মোট রপ্তানি আয়ের ৮৪ শতাংশই এখনও তৈরি পোশাক খাতনির্ভর। এ নির্ভরতা কমাতে চামড়া, পাট, কৃষিপণ্য, ওষুধ, আইসিটি, লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং, হিমায়িত খাদ্য ও প্লাস্টিক খাতকে বিশেষ সুবিধা দেওয়া হচ্ছে।

তিনি আরো জানান, নতুন বাজার অনুসন্ধান, অর্থনৈতিক কূটনীতি জোরদার, স্বল্পসুদে ঋণ সহায়তা এবং রফতানি বহুমুখীকরণের মাধ্যমে বৈশ্বিক বাণিজ্যে বাংলাদেশের অবস্থান আরও শক্তিশালী করার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



সর্বশেষ আপডেট



সর্বাধিক পঠিত



 

সম্পাদক ও প্রকাশক :মো সেলিম আহম্মেদ,

ভারপ্রাপ্ত,সম্পাদক : মোঃ আতাহার হোসেন সুজন,

নির্বাহী সম্পাদকঃ আনিসুল হক বাবু

 

ইমেল: [email protected]

ফোন নাম্বার : ০১৫৩৫১৩০৩৫০,

Design & Developed BY ThemesBazar.Com